August 29, 2026, 4:28 am

অফশোর ইউনিটের প্রভিশন ঘাটতিতে শীর্ষে এবি ব্যাংক

অফশোর ইউনিটের প্রভিশন ঘাটতিতে শীর্ষে এবি ব্যাংক

ব্যাংকঋণে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার জন্য আলোচিত এবি ব্যাংক। শুধু দেশে নয়, বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রেও রয়েছে ব্যাংকের নানা অনিয়ম। ফলে অফশোর ইউনিটের মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণ ফেরত পাচ্ছে না ব্যাংকটি। বাড়ছে ঋণখেলাপি। যদিও এর প্রভাবে মন্দ ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সঞ্চিতি  (প্রভিশন) রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে ব্যাংকটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৩৬ ব্যাংকের অফশোর ইউনিটের সার্বিক প্রভিশন ঘাটতির চেয়ে এবি ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি বেশি। ব্যাংক খাতের অফশোর ইউনিটের মোট প্রভিশন ঘাটতি ১৭১ কোটি ১০ লাখ টাকা। কিন্তু শুধু এবি ব্যাংকেরই প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে ১৭৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। অন্য ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত প্রভিশন রাখার কারণে সার্বিক ঘাটতির পরিমাণ এবি ব্যাংকের চেয়ে কম।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, চলতি বছরের জুন শেষে অফশোর ইউনিটের মোট ঋণখেলাপির পরিমাণ ৪৫১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এর বিপরীতে এক হাজার ৪৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা নিরাপত্তা সঞ্চিতির প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ব্যাংকগুলো রেখেছে ৮৭৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ফলে ১৭১ কোটি ১০ লাখ টাকার প্রভিশন ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এবিসহ অফশোর ইউনিটে খেলাপি রয়েছে ব্র্যাক, ঢাকা, প্রাইম ও উরি ব্যাংকের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০১৯ সালের মার্চ শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ৬০ হাজার ৩১০ কোটি টাকা। তিন মাস পর জুনে এসে তা দাঁড়িয়েছে ৬৩ হাজার ৬৪৭ কোটি টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে অফশোর ব্যাংকিংয়ের ঋণ বেড়েছে তিন হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা বা পাঁচ দশমিক ৫৩ শতাংশ। গত বছরের ডিসেম্বরে এ ঋণ ছিল ৬০ হাজার ৬২৮ কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, অফশোর ব্যাংকিং চালুর পর গত মার্চে প্রথমবারের মতো ঋণ বিতরণ বৃদ্ধির পরিবর্তে কমে যায়। অফশোর ব্যাংকিং হলো বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ দেওয়ার জন্য গঠিত ব্যাংকের আলাদা ইউনিট। দেশের বাইরে থেকে তহবিল সংগ্রহ করে রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়ার জন্য ১৯৮৫ সালে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে ৩৬টি ব্যাংক ইউনিট গঠন করে ঋণ বিতরণ করছে।

গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো অফশোর ব্যাংকিং পরিচালনার নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট থেকে বিতরণ করা ঋণের অন্তত ৭৫ শতাংশ বাংলাদেশে অবস্থিত কোম্পানিতে বিনিয়োগ করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়। এতে ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমে যায়। অফশোর কার্যক্রমের তহবিল আহরণের সুযোগ বৃদ্ধি, বৈদেশিক তহবিলের ব্যবহার নিশ্চিত করা, তহবিল ব্যবস্থাপনা যথাযথ রাখার মাধ্যমে অফশোর ব্যবসার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমের আরও সুষ্ঠুভাবে বিকাশের জন্য গত ১৮ জুন আইনে কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নগদ জমা সংরক্ষণের হার (সিআরআর) সাড়ে চার শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র দুই শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে একটি ব্যাংকের মূলধনের ২০ শতাংশের পরিবর্তে এখন থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত তহবিল সংগ্রহ করা যাবে। এ সংশোধনের ফলে অফশোর ব্যাংকিংয়ে সক্ষমতা বেড়েছে।

জুন পর্যন্ত অফশোর ব্যাংকিংয়ে সবচেয়ে বেশি ১৪ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে এইচএসবিসি ব্যাংক। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাত হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। এছাড়া ইসলামী ব্যাংক চার হাজার ৩৯৪ কোটি, দ্য সিটি তিন হাজার ৫৬ কোটি, ইস্টার্ন দুই হাজার ১০৮ কোটি, ইউসিবি এক হাজার ৯৩৯ কোটি, ব্র্যাক এক হাজার ৮৯৮ কোটি, ব্যাংক এশিয়া এক হাজার ৮৭৬ কোটি, সাউথইস্ট এক হাজার ৭৫৩ কোটি, প্রাইম এক হাজার ৭৩০ কোটি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট দেড় হাজার কোটি ও অগ্রণী ব্যাংক অফশোর ইউনিটের মাধ্যমে এক হাজার ৪২০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com